মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৬

কবিতার প্রশ্ন



কবিতার প্রশ্ন
জাফর পাঠান

আমি কবিতা বলছি –
তামাম জনতার কাছে- একটি প্রশ্ন শুধু আমার
আমি কি আমার নাকি ঐ সাম্রাজ্যবাদীদের ধামার?

ওদের ঐ হুমকিতে -
বন্ধ করে রাখবো আমার চোখ- দেখবোনা শোষণ
বন্ধ করে রাখবো আমার কান- শুনবোনা ক্রন্দন!
আমি কি রুদ্ধ করে রাখবো আমার স্বাধীন বিবেক?
মানুষের ঐ মৌলিক দাবীকে কি বলবো অতিরেক?

অদৃশ্য কোনো আদেশে -
বিবেকতাড়িত হয়ে আমি পক্ষ নেই- মানবতার
অবচেতন মন আমার জাগিয়ে তোলে ধর্মাবতার,
সহ্য হয়না আমার- নিরন্ন বস্রহীনদের কান্না
মাথা গোঁজার একটু ঠাই, ক্ষুধা মেটানোর তামান্না।

ধরণীর চরাচরে -
খুনির হিংস্র ছোবলে- নীলকন্ঠ সারি সারি লাশ
বুলেট-বোমা-রাসায়নিক মারণাস্ত্রের অভিলাষ!
বিকৃত সদ্যজাত শিশু, বিকলাঙ্গ জ্বলসানো মুখ
সহ্য হয়না এসব, তাই হই প্রতিবাদে উম্মুখ।

আমি কবিতা বলছি –
তামাম জনতার কাছে- একটি প্রশ্ন শুধু আমার
আমি কি আমার নাকি ঐ সাম্রাজ্যবাদীদের ধামার?

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৬

মুক্তবৃত্ত ছন্দ কবিতা : ঈদের সাথে আড়ি

ঈদের সাথে আড়ি


জাফর পাঠান


সন্ধায় ফিরে যখন- শূন্য থালা হাতে
কিসের ঈদ কিসের নিদ প্রশ্ন তাতে,
বসনহীন অভাবী- পেটে বাঁধে ক্ষুধা
ধুধু মরুভূমি হাহাকারের এক সুধা।


যাকাতের আশায়- মথিত অভিলাষ
কাপড় হাতে দাতার- অহম বিলাস,
ক্ষুধার্ত শিশু কোলে দুয়ারে দুয়ারে মা
ঈদের সাথে খিদের কি দিবো উপমা।


ঈদেও ওরা ক্ষুধায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে
ক্ষুধা তাড়নায়- চোখ যায় যতদূরে,
পা টেনে টেনে যখন হাঁটে ধীর লয়ে
হৃদ ঘুরে- ঘূর্ণিপাকের দুখি বলয়ে।


দিয়েছি আমিও- ঈদের আনন্দ ছাড়ি
আড়ি নিয়েছি আড়ি ঈদের সাথে আড়ি।

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

কবিতার বাঁক পরিবর্তনের নতুন ধারায় - “মুক্তবৃত্ত ছন্দ”




“মুক্তবৃত্ত ছন্দ” : কবিতার বিষয়, ছন্দ, মাত্রা, পংক্তির অন্ত্যমিল বহাল রেখে কবির ভাব-চেতনানুযায়ী ইচ্ছামত মাত্রা ও পর্ব সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে কবিতা রচনাশৈলীর নাম ‘মুক্তবৃত্ত ছন্দ’।যা গদ্য কবিতা ও পদ্য কবিতার স্বাদ একসাথে এনে দিবে। মুক্তবৃত্ত ছন্দের সুবিদাধি : ১/ বদ্ধাক্ষর বা যুক্তাক্ষরকে বর্তমানে প্রচলিত তিন প্রকার ছন্দে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ধরা হয় ।কিন্তু মুক্তবৃত্ত ছন্দে সর্বাবস্থায় একমাত্রা ধরা হবে।২/ অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দে মাত্রা প্রয়োগের সংখ্যা বিন্যাস নির্ধারিত।কিন্তু মুক্তবৃত্ত ছন্দে লেখক ভাবপ্রকাশের পূর্ণতাহেতু মাত্রা সংখা যথেচ্ছভাবে নির্ধারণ করতে পারবে ।কবিতার ব্যাকরণ নিয়মকে ভেঙ্গে আজতক কবিতার অনেক নতুন নিয়ম প্রবর্তণ হয়েছে ।যেমন, রবীন্দ্রনাথ “মুক্তক ছন্দ” (সমিল ও অমিল ) এবং “গদ্য ছন্দের” প্রবর্তক ।মধুসূদন দত্ত পয়ারের শৃংখল ভেঙ্গে সৃষ্টি করে গেছেন “অমিত্রাক্ষর ছন্দের”।নাট্যকার গিরিশ চন্দ্র সেন প্রচলণ করে গেছেন “গৈরিশ ছন্দ”।(অসমাপ্ত)
লেখকের সহজবোধ্যতা ও ছান্দসিক আধুনিক কবিতা লেখার সুবিধার্থে কিছু নতুন ছন্দরীতি সংযোজনের মাধ্যমে অক্ষরবৃত্ত-মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দ নামক তিনটি ছন্দ প্রকারের সাথে ‘মুক্তবৃত্ত ছন্দ’ নামক আরেকটি ধারা বা প্রকারের উদ্ভাবন করা হয়েছে। মুক্তবৃত্ত ছন্দে কবিতার প্রাণ- ‘ছন্দকে’ পুরোপুরি বহাল রেখে লেখকরা মুক্তচিত্তে ভাবের যথাযথ প্রসার ঘটিয়ে ইচ্ছানুযায়ী মাত্রা, পর্ব, যতি, তাল, লয়, বিষয় ও ছন্দের অন্ত্যমিলকে এবং স্তবকসহ কবিতার পুরো বিন্যাসকে নিজেরমত করে সাজিয়ে নিতে পারবেন ।এতে গদ্য নামক পদ্যের চরণ, পংক্তি ও স্তবক এবং প্রস্ফুট ছন্দের অভাবতা এবং সর্বপরি সার্বিক ব্যাকরণহীনতার অপবাদ থেকে যেমনি বেড়িয়ে আসা যাবে, তেমনি দৃষ্টিনন্দন, শ্রতিমধুর, ব্যকরণসমৃদ্ধ ও ছান্দসিক কবিতা উপহার দেয়া যাবে আগত প্রজন্মের কাছে । কবিতার প্রাণ ছন্দকে বাদ দিয়ে গদ্য লেখাকে পদ্য বলে চালিয়ে দিয়ে যেভাবে পাঠকমহলে বিরক্তির উদ্রেক ঘটানো হয়েছে ও পাঠকপ্রীয়তা হ্রাস করা হয়েছে এবং বর্তমান ব্যাকরণের কঠিন মারপ্যাঁচে পড়ে কবিতার প্রতি নতুন লেখকদের ভীতি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে কবিতা তার সমৃদ্ধির উচ্চাসন থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশংকা করতেই পারে ।তাই ছন্দময় কবিতাকে ধরে রাখার স্বার্থে ও নতুন প্রজন্মের কাছে সহজবোধ্য নতুন ছান্দসিক কবিতা লেখার পদ্ধতি উপস্থাপনের মাধ্যমে ছন্দপ্রাণ কবিতাকে আরো বেগবান করার মানসেই “ মুক্তবৃত্ত ছন্দের ” রীতি প্রচলণ করার প্রয়াস চালানো হলো ।